Tuesday, December 29, 2020

ভুয়া ঋণ : শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ১ কোটি ২২ লাখঃ

ভুয়া ঋণ : শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ১ কোটি ২২ লাখঃ


ঢাকার দোহার উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের আন্তা:বাহ্রা শাখা থেকে কৃষি ঋণ দেয়ার নামে শত শত কৃষকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্তা:বাহ্রা শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে। ফলে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ না নিয়েও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকের নামে অসহায় ১২২ ঋণ গ্রহীতা।


এসব ঋণ গ্রহীতারা জানেন না তাদের নামে ব্যাংকে ঋণ নেয়ার কথা বা ঋণের পরিমাণই বা কত? নিয়ম অনুযায়ী ঋণ আবেদন এবং ঋণ উত্তোলনের সময় গ্রহীতাকে স্বশরীরে দস্তখত  করে টাকা উত্তোলন করার কথা কিন্তু এসব গ্রহীতা কেউই কোনো ফরম বা কাগজে কোনো সই দেননি। এমনকি কখনই এ শাখায় যাননি বা চেনেনই এ শাখার অবস্থান। সম্প্রতি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক অডিটে এ বিষয়টি ধরা পড়লে অসহায় দরিদ্র এসব মানুষের নামে ব্যাংক থেকে নোটিশ পাঠানো হয় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার জন্য। বিষয়টি জানতে পেরে রোববার দুপুরে এ শাখায় ঋণ গ্রহীতার তালিকা দেখতে জড়ো হতে থাকেন গ্রহীতারা। তালিকায় নিজের নাম দেখে হতবাক হয়ে যান হতদরিদ্র এ মানুষগুলো। ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখা থেকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সুব্রত কুমার রায়ের নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সত্যতা খুজতে কাজ করছে।


 

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা নতুন শাখা ব্যবস্থাপক নাসির আহমেদের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। আন্তা:বাহ্রা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ শাখা থেকে এরিয়ার বাহিরে নিয়ম বহির্ভুতভাবে ১২২ জন ঋণ গ্রহীতাকে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।


 

সূত্রে জানা গেছে, এ শাখায় ফিল্ড অফিসার থাকলেও শাখা সাবেক ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির একাই সব দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ২ তারিখে যোগদানের পর এই কর্মকর্তা প্রতিটি ইউনিয়নে দালাল নিযুক্ত করে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ব্যাংক ম্যানেজার হুমায়ূন কবিরসহ এসব ঋণ বিতরণ করেন। নানা অনিয়মে হুমায়ূন কবিরকে দোহার উপজেলা শাখায় বদলি করা হয়। এর পূর্বে তিনি নবাবগঞ্জের চুড়াইন শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানেও তিনি অনেক অনিয়ম করেন এবং  অনিয়মের অভিযোগে কোনো একসন না নিয়ে আন্তা:বাহ্রা শাখায় ইকরাশিতে বদলি করা হয়।


 

অগ্রণী ব্যাংকের আন্তা:বাহ্রা শাথার মাঠ কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম জানান, কৃষি ঋণ দেয়ার আগে মাঠ পর্যায়ে আমাদের পরিদর্শণ করতে হয় কিন্তু এখানে সব ম্যানেজার নিজে অফিসে বসেই সব করতেন। তবে রুমে মাঝে মধ্যে কিছু দালালদের চলাচল লক্ষ করেছি।


 

নতুন শাখা ব্যবস্থাপক নাসির আহমেদ বলেন, আমি এ শাখায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে যোগদান করেছি। পূর্বে কে কি অনিয়ম করেছে সে বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। কতজন কৃষকের ঋণের বিষয়ে অডিট আপত্তি এসেছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যে সমস্ত কৃষকের মধ্যে হালনাগাদ (রিকভারি) ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল তাদের মধ্য থেকে কিছু কৃষকের নামে ব্যাংকের অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা দল কর্তৃক আপত্তি এসেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আন্তা:বাহ্রা শাখা থেকে সাবেক ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবীরের দুই ছেলে আসলাম কবীর ও মাহমুদুল কবীরের নামে ২ লাখ, তার ভাই রেজাউল কবির আজাদ ও তার স্ত্রী শিমু আক্তারের নামে ১ লাখ টাকা ঋণ দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যাদের বর্তমান ঠিকানা বরিশাল।

ভুক্তভোগীরা জানান, ত্রাণ দেয়ার জন্য স্থানীয়  নাজমা আক্তার নামে এক মহিলা তাদের কাছ থেকে ১১ টি ভোটার আইডি নিয়ে ব্যাংকে জমা দেয়। এরপর তারা ঋণ নেওয়ার বিষয়ে নোটিশ পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পরেন। অনেকেই জানেন না তাদের নামে কত টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে। তাই গত ২৬ ডিসেম্বর অনেক ভুক্তভোগী আন্তা:বাহ্রা শাখায় ভীর জমায় তথ্য জানতে। এসময় অনেকে যখন জানতে পারেন তাদের সাথে প্রতারণা করে ঋণের বোঝাঁ চাঁপিয়ে দেয়া হয়েছে, তখন ব্যাংকের ভেতরেই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন অনেকে।


 

 ইকরাসি এলাকার ছবি বেগম বলেন, আমি নাজমার কাছে বয়স্ক ভাতার জন্য ১৫’শ টাকা ও ভোটার আইডি দিয়েছি, আমার নামে কিভাবে ঋণ দিল, আমিতো কিছুই জানিনা। আল্লাহ এদের বিচার করবে। নজর আলী বিশ্বাস এর স্ত্রী ছবি বেগম জানান, আমরা তো এই ব্যাংক চিনি না অথচ আমাদের নামে ঋণ নিয়ে এর বোঝাঁ আমাদের উপর চাঁপিয়ে দিয়েছে। আমরা সরকারের কাছে এর বিচার চাই।


এবিষয়ে  নাজমা আক্তার জানান, আমি ত্রাণ দেয়ার নামে কিছু ভোটার আইডি (১১ টি) আইডি নিয়ে ব্যাংকে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু বাকি ভুক্তভোগীদের ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। তারা কার মাধ্যমে ম্যানেজার কে আইডি দিয়েছে তা বলতে পারবোনা। নাজমা আক্তার এও জানান - এরমধ্যে কয়েকজন ১ লাখ করে নিয়েছে তাও সত্যি যেমনঃ করিমগঞ্জ এর রিতা। আবার ইকরাসির মা মেয়ে সাথী ও মুন্নি  দুইজন নিয়েছে  ৫০ হাজার করে লোন,কিন্তু অসৎ প্রতারক ম্যানেজার তাদের নামে  হিসাবের খাতায় দেখিয়েছে ১ লক্ষ টাকা করে। নাজমা বেগম বলেন আমিও প্রতারণার শিকার হয়েছি ম্যানেজারের কথায় বিশ্বাস করে আমার খুব কাছের অসহায় গরীব মানুষদের কয়েকটি আইডির ফটো কপি দিয়ে। একটা আইডির ফটোকপি দিয়ে একটি সরকারি ব্যাংক থেকে এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা উঠিয়ে হাতিয়ে নেয়া যায় শুনে খুব অবাক হলাম। এই সুযোগে আমার দুই একজন প্রতিবেশী যাদের সাথে আমার পূর্ব শক্রতা চলছে তারাও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেস্টা করে থানা পুলিশ এর মাধ্যমে আমাকে হয়রানির চেষ্টা করছে,এই মর্মে আমি ব্যাংকের ম্যানেজার ও কতিপয় দুস্ট চক্রদের নামে দোহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

অগ্রণী ব্যাংকের আন্তা:বাহ্রা শাখার আওতার বাইরে দোহার উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এমন নামের তালিকা প্রতিবেদকের হাতে আসে যারা কোন প্রকার ঋণ না পেয়ে ঋণের বোঝা বহন করছেন। এছাড়া ইকরাশি এলাকার জিয়াসমিন আক্তার জানান, তার স্বামী সফিউদ্দিন বিশ্বাস গত তিন বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। কিন্তু তার স্বামীর নামে চলতি বছরের ২২ নবেম্বর ১ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে অডিটের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সুব্রত কুমার রায় বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। তবে কি পরিমানে অনিয়ম হয়েছে এখনো বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আগামী চার দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, আমরা আরও একটু সময় বাড়িয়ে নিয়েছি। অডিট শেষ হলে বিস্তারিত জানানো যাবে।


 

জালিয়াতির বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হুমায়ূন কবিরের বর্তমান কর্মস্থল জয়পাড়া শাখায় গেলে ব্যাংকের এজিএম এসএম মহসিন জানান, অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে হুমায়ূন কবির ১০ দিনের ছুটিতে আছেন। এব্যাপারে হুমায়ূন কবিরের মুঠোফোনে  ০১৭১৬৮৬৫৪৩৩ এই নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কথিত আছে রাজধানী ঢাকার বাসাবোতে রয়েছে তার সুইচ্চ পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের এপার্টমেন্ট, আরও আছে দুর্নীতি আর অবৈধ উপায়ে কামানো সম্পদের পাহাড়।  চলবে -

Monday, December 28, 2020

পিরোজপুরের খালেক ১৮০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন কানাডায়

পিরোজপুরের খালেক ১৮০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন কানাডায়

 

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি এম এ খালেকের বিরুদ্ধে ৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া ও তিনটি ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এম এ খালেকের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিষয়ের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। যার বড় অংশই কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এম এ খালেকের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার সহকারী পরিচালক মো. আতাউর রহমান সরকারকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নোটিস পাঠিয়ে তাকে ৪ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হতে বলেন। এম এ খালেক দুদকে হাজির না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ অবস্থায় অনুসন্ধান কর্মকর্তা ৪ মার্চ তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। দুদকের চিঠিতে এম এ খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (২৬৯২৬১৯৫৭৬৮১৮), বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর (বিএন ০০১৬০৭৮) ও কানাডিয়ান পাসপোর্ট নম্বর (বিএ ৬৫৩৮১০) উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকানা লেখা হয়েছে, পিতা মৃত এম ইউ হাওলাদার, বাড়ি নং ৩১, রাস্তা ১২৩, গুলশান-১।

দুদকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেন, ‘পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বাসিন্দা এম এ খালেক কীভাবে এত সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছেন সেটা সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি এক ডজনেরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে থেকে সেখান থেকে বিভিন্ন কৌশলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে কানাডায় পাচার করেছেন। তিনি কানাডায় নামে-বেনামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করেছেন। দুদক সেগুলোর খোঁজখবর নিচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি কানাডার নাগরিকত্ব নিয়েছেন। তিনি কী পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার করেছেন, সেগুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।’

দুদকে জমা হওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ব্যাংক, বীমা, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এম এ খালেক। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদসহ উচ্চপদে থেকে বিভিন্ন কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ কারণে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়ে। ২০১০ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা সরিয়ে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার শুরু করেন। এম এ খালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রাইম ফাইন্যান্স সিকিউরিটিজের ৩০৫ কোটি টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ৩৭৬ কোটি টাকা, প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের ২০ কোটি টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের ২০০ কোটি টাকা, পিএফআই প্রপার্টিজের ১৫০ কোটি টাকা, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির ১৬৭ কোটি টাকা, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডের ৫০ কোটি টাকা, পিএফআই ক্যাপিটালের ১৫ কোটি টাকা সরিয়েছেন। এ ছাড়া শেয়ার ব্যবসা, পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীদের নামেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এম এ খালেক আল-আরাফাহ ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ম্যাকসন্স বাংলাদেশ, ম্যাকসন্স বে লিমিটেড, গ্যাটকো, গ্যাটকো অ্যাগ্রো ভিশন ও গ্যাটকো টেলিকমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই খেলাপি।

দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি এম এ খালেকের কাছে পাবে ১৬৭ কোটি টাকা। প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশনের হিসাব থেকে তার প্রাইম ব্যাংক মতিঝিল ও বনানী শাখার হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়; যা সুদ-আসলে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা এম এ খালেক নিজের ব্যাংক হিসাবে সরিয়েছেন। ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা তার স্ত্রী সাবিহা খালেক, ভাগ্নে মিজানুর রহমান, কর্মচারী মো. তাজুল ইসলাম ও ম্যাক্সসন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এ ছাড়া প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশন থেকে ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন নামে পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করেছেন, যা ফাউন্ডেশনের হিসাব বিবরণীতে ধরা পড়েছে।

Sunday, December 20, 2020

সাংবাদিক দের ছত্র ছায়ায় সেলিম এক লম্পট নারী লোভি পিচাশ

সাংবাদিক দের ছত্র ছায়ায় সেলিম এক লম্পট নারী লোভি পিচাশ


 এই কুলাঙ্গার নাম সেলিম দেওয়ান পিতা: কুদ্দুস দেওয়ান। ঢাকার দোহার উপজেলার চরকুশাই তার বাড়ি। সেলিম দেওয়ান সাংবাদিকের বাহারী তকমা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায় লোকের ভুলক্রটি আর অপরাধ ধরে নিউজ করে দেবে বলে ভয় দেখায় আর টাকা কামায়। সে ফেইসবুকে বিভিন্ন মিডিয়ার লোগো লাগিয়ে ছবি প্রকাশ করে লোকের চোখে ধুলো দিয়ে নিজেকে জাতীয় সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে সবাইকে ঠকিয়ে বেড়াচ্ছে তার এলাকায়।


অধুনায় এই সেলিম কাকলি বেগম নামের আরেক ভূয়া মহিলা সাংবাদিকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে এবং কাকলির স্বামী তাদের দুই জনের এই অবৈধ সম্পর্কের বিরুদ্ধে কিছু না করতে পেরে প্রায় বছরখানেক ধরেই নিরুদ্দেশ রয়েছেন। তবে তিনি তার ১৩ বছরের আদরের মেয়ে তানিয়া( ছদ্মনাম)  যথাসাধ্য খোঁজখবর রাখেন এবং  এলাকায় আসেন না লজ্জা ও সেলিমের ভয়ে।


সেলিম কাকলির এই পরকিয়া প্রেমের ঘটনাটি প্রকাশ পায় ঠিক তখন যখন কাকলি বেগম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার এই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাটি সে চেপে রেখেই চলছিলো এতো দিন কিন্তু অকস্মাৎ তাকে দেখে সন্দেহ করে বাড়ির মহিলারা। একপর্যায়ে প্রমানিত‌ও হয় যে কাকলি বেগম ছয় মাসের প্র্যাগনেন্ট। কাকলি বেগমের মতে এটা তার স্বামীরই সন্তান।


বিষয়টি এলাকা ও আত্মীয়  স্বজনের মধ্যে তুমুল ভাবে নাড়া দেয় এবং তারা ফোনের মাধ্যমে কাকলি বেগমের স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে তাকে জানালে ঘটনাটি শোনার পর তার তো আকাশ থেকে পরার মতো অবস্থা হয়ে যায়! কাকলি বেগমের স্বামীর দাবি যে গত প্রায় বছরখানেক যাবৎ তার স্ত্রীর সাথে সেলিমের পরকিয়া সংক্রান্ত কারনে তুমুল ঝগড়াঝাঁটি চলছে এবং এই কারণেই তাদের মধ্যে কোন শারীরিক সম্পর্ক‌ও নেই বছরখানেক যাযৎ। অত‌এব কাকলির গর্ভের সন্তান কোনোভাবেই তার হতে পারে না।


এদিকে সেলিম ও কাকলি তাদের এই পাপ অস্বীকার ও চাপা দিয়ে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে করে আরেক জঘন্যতম অপরাধ।


সেলিম দেওয়ান ও কাকলি বেগমের মধ্যে কোনো নাজায়েজ সম্পর্ক নেই বরং মা-সন্তানের সম্পর্ক রয়েছে এইটাই প্রমাণের উদ্দেশ্যে তারা দুজনে মিলে আদালতে গিয়ে উকিল ধরে কাকলি বেগমের নিজের নাবালিকা মেয়ে তানজিলার সাথে আইনকে অবমাননা ও ফাঁকি দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সেলিম দেওয়ান (৩২) এর সাথে তানিয়ার ১৩ বছরের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েটির কোর্ট-ম্যারিজের জাল কাগজপত্র বানিয়ে আনে এবং এলাকায় তা প্রকাশ করে সবাইকে বোকা বানানোর ব্যবস্থা করে। এদিকে তানিয়া বলে যে এই বিয়ে সম্পর্কে সে কিছুই জানে না কিন্তু তানিয়া তার মায়ের নজরবন্দি থাকার কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া রয়েছে এখনো।


এছাড়াও সেলিম দেওয়ানের ভয়ে তানিয়ার গরীব আত্মিয় স্বজন তথা চাচারা কোথাও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না এবং কাকলি বেগমের বাড়ির আশেপাশেও কেউ যায় না শুধু ভয়ে।

উল্লেখ থাকে যে বছর চারি আগে এই ভূয়া সাংবাদিক ও কথিত মানবাধিকার পরিচয় কর্মী সেলিম দেওয়ান এর বাবা কুদ্দুস দেওয়ান ও নয় বছরের একটি শিশু মেয়ে কে ধর্ষণ করে মামলার আসামি হয়। অতঃপর সেলিম এর আরেক চাচা আওয়ামী নেতা মজিবর দেওয়ান এর বিশেষ সহায়তায় থানা ও মামলার আইও মাহমুদুল কে  বিপুল অংকের টাকা পয়সা দিয়ে এবং মামলার বাদীনি গরীব ও অসহায় হওয়ায় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা উঠাতে বাধ্য করে এদেশ থেকে বাদীনি কে তারিয়ে এ চেপ্টার ক্লজ করে আবার নতুন ভাবে সাফ শুদ্রা হয়ে সমাজপতি বনে যায়। - চলবে -


‘জাতির বিবেক সাংবাদিক’ সেই সাংবাদিকের পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে এহেন কাজ দেখে এলাকাবাসী হতাশ। তাদের প্রশ্ন দেশে কি আইনের শাসন বলে কিচ্ছু নেই? কি লাভ তবে থানা পুলিশ থেকে? বর্তমানের সাংবাদিক মানে কি তবে সন্ত্রাসী!?

Thursday, December 10, 2020

দোহার -নবাবগঞ্জে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত

দোহার -নবাবগঞ্জে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক : ৭২তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার দোহারে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন -BHRC এর ঢাকা জেলা দক্ষিণ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি লাকী আহমেদ এর ভার্চুয়াল উপস্থিতি ও সিঃ সহসভাপতি আঃ হামিদ ইন্তাজীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ন সম্পাদক রাহীম কমিশনারের সঞ্চালনায় দিবসটি উদযাপিত হয়েছে উপজেলার স্বাধীনতা ভাস্কর্য রতন চত্বরে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায়, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর উদ্যোগে ঢাকা জেলা দক্ষিণ শাখার মানবাধিকার কর্মী বৃন্দ দোহার উপজেলা পরিষদ, কলেজ মোড়,থানার মোড় প্রদক্ষিণ করে রতনচত্বরে গিয়ে আলোচনা সমাবেশে যোগ দেয়। সমাবেশের প্রধান আলোচক আঞ্চলিক জেলা সাধারণ সম্পাদক হাজী নাছির উদ্দিন পল্লব। আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সহ সভাপতি , মোহাম্মদ রাব্বিল, জালাল উদ্দিন আহমেদ, মহি উদ্দিন মাতবর, সামাদ মাতবর,রফিক তালুকদার, যুগ্ন সম্পাদক হায়দার বেপারী, জাহাঙ্গীর চোকদার, এইচ এম আরিফ, সেখ সোহেল রানা, বাসুদেব চন্দ্র, মাঠ পরিদর্শক খন্দকার রাসেদ, হেলাল মাঝি

পৌরসভা সভাপতি সাইফুল কবির বাবু, সেক্রেটারি মেহেদী হাসান সাদ্দাম বেপারী , ধর্ম বিঃ সম্পাদক মাওলানা কাজী আব্দুর রাজ্জাক , অন্যান্য মানবাধিকার কর্মী জন গমেজ, ডেভিড গমেজ, নাজমা, রহিমা, চৈতি, রনি, বাবু, মেহেদী , মনিরুল ইসলাম ও রাজীব শরীফ প্রমূখ।

Thursday, December 3, 2020

দোহারের লটাখোলা সরল সঙ্ঘ ক্লাবে ঢুকে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ২,আটক ১

দোহারের লটাখোলা সরল সঙ্ঘ ক্লাবে ঢুকে সন্ত্রাসী হামলা, আহত ২,আটক ১


বাংলার সংবাদঃ ঢাকার দোহার উপজেলার লটাখোলা গ্রামের সরল সংঘ ক্লাবে প্রবেশ করে দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন পশ্চিম লটাখোলা বিলেরপাড় এলাকার হাসেন বেপারীর ছেলে আলম বেপারী(২৭) অপরজন একই এলাকার আব্দুল বারেক এর ছেলে রাহাত হোসেন (৩২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আহত আলম বেপারীর সাথে তার স্ত্রী অভিমান করে বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে স্ত্রীকে নিয়ে আসতে শশুরবাড়ি লটাখোলা বিলেরপাড় গেলে আলমের সাথে বাকবিতন্ডা হয় শশুরবাড়ির লোকদের সাথে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সন্ধ্যায় লটাখোলা সরল সংঘ ক্লাবে আসে আলম। এসময় তার শশুরবাড়ির আত্মীয় আব্দুল বারেক এর ছেলে সুজন ওরফে ফল সুজনের নেতৃত্বে স্থানীয় বাবু,শামিম,বড় শামিম,মারুফ,ইব্রাহিম ,জনি, মেহেদী,রাব্বি,মাহিন ও নয়ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করে আলমকে এলোপাথারি কুঁপিয়ে আহত করে। তাকে বাচাতে এলে স্থানীয় রাহাতকেও কুঁপিয়ে আহত করে তারা। এসময় ক্লাবের ভেতরে থাকা টেলিভিশন ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় দোহার থানা পুলিশ। এসময় ইব্রাহিম নামে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

লটাখোলা সরল সংঘ ক্লাবের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আনসারী জানান, একটি ক্লাবে প্রবেশ করে এভাবে সন্ত্রাসী হামলা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার সাথে জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি আমদের ক্লাবের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা রুজু হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বাংলার সংবাদ কে জানান দোহার থানার পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম।

শেয়ার ‍করুন

Leave a Reply

Logged in as adminLog out?

Wednesday, December 2, 2020

কামরাঙ্গীরচরে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে অপহরণ করে মারধর

কামরাঙ্গীরচরে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে অপহরণ করে মারধর



নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর নার্সারী গলি এলাকাতে বসবাসরত নবাবগঞ্জের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালদিয়া এলাকার বাসিন্দা, নজরুল ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী হামিদা আক্তারের বিরুদ্ধে তাকে ভারাটে সন্ত্রাসী দিয়ে মারধর ও অপহরণের অভিযোগ করেছেন। এবিষয়ে তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য যে গত দু দিন আগে নজরুলের  প্রথম স্ত্রী হামিদা আক্তার তার স্বামীকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। নজরুল এর  স্বজনরা কামরংগি চর থানার সাব ইন্সপেক্টর ইজার উদ্দিন এর সাহায্যে তাকে উদ্ধার করে। থানা থেকে আসার সময় পথিমধ্যে  সেই ভারাটে সন্ত্রাসীরা তাকে আবার মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এবিষয়ে নজরুল ইসলাম এর ছেলে নয়ন বলেন, আমার পিতাকে যারা মারধর করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনী লড়াই চালিয়ে যাব।

নজরুল বর্তমানে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  চিকিত্সাধীন অঅবস্থায়  আছে। প্রচন্ড মারধরের ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, মারের আঘাতে  তার ডান চোখ ফুলে গেছে।সে চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছেন না।